আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে-এপারে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা এবার উঠে এসেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ডাঙগোয়াল’-এ। ভিন্নধর্মী গল্পের এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল। ছবিটি নির্মাণ করেছেন জ্যোতির্ময় রায়।
সীমান্ত এলাকায় গরু, চোরাই পণ্য কিংবা মানুষ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে ‘ডাঙগোয়াল’ বলা হয়। এই মানুষদের জীবন, সীমান্তঘেঁষা বাস্তবতা এবং এসব ঘটনা ঘিরে তৈরি হওয়া নানা গল্পকে কেন্দ্র করেই চলচ্চিত্রটির আখ্যান এগিয়েছে।
তবে ‘ডাঙগোয়াল’ কেবল সীমান্তের চোরাচালানের গল্প নয়। চলচ্চিত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একজন লেখকের সৃজনশীল দ্বন্দ্ব। লালমনিরহাটের সাংস্কৃতিক কর্মী শাহীদুজ্জামান লাবলুর জীবনের সত্য ঘটনা এবং সেই ঘটনা অবলম্বনে নাটক লেখার সময় তাঁর ভেতরে তৈরি হওয়া দ্বিধা ও মানসিক টানাপোড়েনকে ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে ছবিটি।
নির্মাতা জ্যোতির্ময় রায় জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ছিটমহল ও সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। শাহীদুজ্জামান লাবলুর একটি নাটক দেখার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন নির্মাতা। পরে লাবলু নিজের বাস্তব জীবনের ঘটনা এবং সেই ঘটনা নাটকে তুলে ধরার সময়কার মানসিক দ্বিধার কথা জানান। সেখান থেকেই ‘ডাঙগোয়াল’-এর চলচ্চিত্র ভাবনা তৈরি হয়।
গল্পে দেখা যায়, সীমান্তে গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের নিয়ে আমিরুল গিদাল তার যাত্রাদলের জন্য একটি নতুন পালা লিখছেন। কিন্তু বাস্তব জীবনের গল্পকে শিল্পে রূপ দিতে গিয়ে একজন লেখককে কতটা ঝুঁকি নিতে হয় এবং সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোথায় থামতে হয় সেই প্রশ্নও গল্পে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রটি নিয়ে দোয়েল বলেন, তিনি বরাবরই ভিন্নধর্মী কাজের প্রতি আগ্রহী। ‘ডাঙগোয়াল’-এর গল্প প্রথম শোনার পরই তাঁর ভালো লেগেছিল। কাজটি করার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে আনন্দের ছিল। তাঁর মতে, দেশে এ ধরনের গল্প নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম কাজ হয়; তাই আরও বেশি ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন।
‘ডাঙগোয়াল’-এ দোয়েলের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন দীপক কুমার গোস্বামী, শাহানা সুমি, উজ্জ্বল মিয়া, বিধান রায় এবং ভাটিবাড়ি লোক নাট্যদলের সদস্যরা।
নির্মাতা জানিয়েছেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। উৎসব পর্ব শেষ হওয়ার পর ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অথবা ইউটিউবে দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সীমান্তের অপ্রকাশিত বাস্তবতা, একজন লেখকের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং লোকজ সংস্কৃতির আবহ সব মিলিয়ে ‘ডাঙগোয়াল’ প্রচলিত বিনোদনধর্মী গল্পের বাইরে গিয়ে একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আপনার মতামত লিখুন :