আনন্দ বিনোদন ডেস্ক : বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন ভারতের অভিনেতা প্রকাশ রাজ। বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এই অভিযোগ তুলে ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও দিয়েছেন অভিনেতা।
নিজের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশ করা ভিডিওতে প্রকাশ রাজ দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বেঙ্গালুরুতে প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি তাঁদের একজন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেঙ্গালুরুতেই তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, স্কুল-কলেজ ও থিয়েটারচর্চা। এমনকি এই কেন্দ্র থেকে তিনি লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনর্বহালের বিষয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, এখন তাঁকে ভোটার পরিচয়পত্র ফিরে পেতে কী কী নিয়ম ও কাগজপত্রের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেটিই দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে প্রকাশ রাজের অভিযোগের পর বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি করপোরেশন বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিনেতার নাম সরাসরি বাতিল করা হয়নি; বরং ঠিকানা যাচাইয়ের পর ভোটার স্ট্যাটাস ‘Shifted’ বা ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ঠিকানায় প্রকাশ রাজ দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন না। পরে ওই ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী, প্রপার্টি ম্যানেজার ও মালিকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের মালিকও ফোনে নিশ্চিত করেছেন যে প্রকাশ রাজ প্রায় চার বছর ধরে ওই ঠিকানায় থাকেন না এবং বর্তমানে সেখানে অন্য ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে স্পট ইনস্পেকশন রিপোর্ট তৈরি করে তাঁর ভোটার স্ট্যাটাস ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি করপোরেশনের কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জগদীশ জি জানিয়েছেন, তিনি নিজে প্রকাশ রাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে তিনি আগের ঠিকানায় আর থাকেন না এবং বর্তমানে শান্তিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতাধীন অন্য একটি ঠিকানায় বসবাস করছেন।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমান ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করতে প্রকাশ রাজ বিএলওর মাধ্যমে ‘ফরম-৬’ পূরণ করতে পারবেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগটি কর্তৃপক্ষ যাচাই করে সত্য নয় বলে জানিয়েছে।
এদিকে প্রকাশ রাজকে ঘিরে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত বিতর্ক এবারই প্রথম নয়। এর আগে এক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ঠিকানায় ভোটার কার্ড রাখার অভিযোগ উঠেছিল। গত জুলাইয়ে ওই মামলায় তাঁকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দেওয়া হয় বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে প্রকাশ রাজের অভিযোগ এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাল্টা ব্যাখ্যার পর বিষয়টি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে অভিনেতার অভিযোগ ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বলছে, ঠিকানা পরিবর্তনের কারণেই নিয়ম অনুযায়ী তাঁর আগের ভোটার রেকর্ডে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :