• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

বয়স যেন শুধুই সংখ্যা, পূর্ণিমার মুগ্ধতা আজও অটুট


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 16, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  ঢাকাই চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসা ধরে রাখা অভিনেত্রীদের তালিকায় পূর্ণিমার নাম আলাদা করে উচ্চারিত হয়। সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রের ধরন বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্মের শিল্পী, বদলেছে দর্শকের রুচিও। তবে পূর্ণিমাকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। বরং বয়স ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতে যোগ হয়েছে পরিণত এক সৌন্দর্য।

চলচ্চিত্রে এখন আগের মতো নিয়মিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় পূর্ণিমা। নিজের নতুন ছবি প্রকাশ করলেই মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ছবি প্রকাশ করে জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ছবিতে সাদা পোশাকের সঙ্গে কালো-সাদা চেক নকশার জ্যাকেট, খোলা সোজা চুল এবং স্বাভাবিক সাজে দেখা গেছে পূর্ণিমাকে। তাঁর পরনে ছিল সাদা ডিপ ভি-নেক টপ ও প্যান্ট। সঙ্গে ছিল হাতঘড়ি, সূক্ষ্ম ব্রেসলেট এবং স্ট্র্যাপি হিল। পুরো সাজে ছিল আধুনিকতা ও পরিমিত আভিজাত্যের ছাপ।

ছবির সঙ্গে পূর্ণিমার লেখা ক্যাপশনটিও নজর কেড়েছে। জীবনের প্রতিকূল সময়কে নিজের ভেতরের আলোর সঙ্গে তুলনা করে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। তবে নিজের ভেতরের ঝড়গুলোকে কখনোই তোমার বয়ে চলা আলোর চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হতে দিও না।’ তাঁর এই বার্তার পর মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীরাও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

১৭ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে অভিষেক

পূর্ণিমার চলচ্চিত্রযাত্রার শুরুটা হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন রিয়াজ। তখন পূর্ণিমা ছিলেন নবম শ্রেণির ছাত্রী।

এরপর ধীরে ধীরে ঢালিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন এই অভিনেত্রী। মান্না, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিল খান ও শাকিব খানসহ সে সময়ের জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন তিনি।

তবে রিয়াজ ও পূর্ণিমার জুটির জনপ্রিয়তা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, *আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’*সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় তাঁদের অভিনয় দর্শকের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘মনের মাঝে তুমি’ পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত সিনেমা হিসেবে এখনো দর্শকের স্মৃতিতে রয়েছে।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক ও বিজ্ঞাপনেও পরিচিত মুখ

শুধু বড় পর্দায় নয়, ছোট পর্দাতেও নিজের অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন পূর্ণিমা। ‘লাল নীল বেগুনী’সহ বিভিন্ন নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও ছিল তাঁর সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন সময়ে একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে দেখা গেছে তাঁকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও গানের সঙ্গেও ছোটবেলা থেকেই তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ফলে বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এই অভিনেত্রীর।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বীকৃতি

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে দর্শকের ভালোবাসার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন পূর্ণিমা। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ২০১০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন তিনি।

এ ছাড়া ‘মনের মাঝে তুমি’ ও ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমার জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারেও সম্মানিত হয়েছেন তিনি।

পর্দায় অনিয়মিত, আলোচনায় নিয়মিত

বর্তমানে চলচ্চিত্রে আগের মতো নিয়মিত নন পূর্ণিমা। তবে বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি। তাঁর অভিনীত ‘জ্যাম’‘গাঙচিল’ এখনো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও তাঁর অভিনয়জীবনে নতুন কাজের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

বড় পর্দার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় উপস্থাপনা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনেও দেখা যায় তাঁকে। অর্থাৎ ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি কমেছে ঠিকই, কিন্তু দর্শকের আগ্রহ কমেনি।

সব মিলিয়ে পূর্ণিমার ক্যারিয়ার যেন সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কারের এক দীর্ঘ গল্প। কৈশোরের সেই নবীন অভিনেত্রী থেকে আজকের পরিণত শিল্পী—পথের দৈর্ঘ্য অনেক। বদলেছে সময়, বদলেছে বয়স, বদলেছে বিনোদন জগতের চেহারা। কিন্তু দর্শকের চোখে পূর্ণিমাকে ঘিরে সেই মুগ্ধতা এখনো অটুট।

সময়ের সঙ্গে তাঁর জীবনে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা ও পরিণত ভাবনা। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ছবির প্রতিক্রিয়াই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—পূর্ণিমার ক্ষেত্রে বয়স হয়তো ক্যালেন্ডারের সংখ্যা, মুগ্ধতা নয়।