• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

ওটিটির দাপটে বদলাচ্ছে ছোটপর্দা, নতুনদের সুযোগ বাড়লেও রয়ে গেছে মূল্যায়নের প্রশ্ন


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 2, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  বাংলা নাটকের জনপ্রিয় অনেক তারকাই এখন টেলিভিশনের গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও বড়পর্দার ব্যস্ততায় সময় কাটাচ্ছেন। আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও মেহজাবীন চৌধুরীর মতো পরিচিত মুখদের এই পরিবর্তনের ফলে ছোটপর্দায় নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য বড় পরিসরে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সামনে এসেছে মেধার মূল্যায়ন, কাস্টিং প্রক্রিয়া এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন।

আফরান নিশোর মতে, একজন শিল্পীর কাজের পরিধি বড় হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ওটিটি ও সিনেমায় উন্নত বাজেট, পর্যাপ্ত সময় এবং গল্প নির্মাণের যে সুযোগ পাওয়া যায়, তা সাধারণ টেলিভিশন নাটকে সবসময় সম্ভব হয় না। তার মতে, একাধিক গতানুগতিক নাটকে অভিনয়ের চেয়ে একটি মানসম্মত সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে কাজ করাই শিল্পীর জন্য বেশি তৃপ্তিদায়ক। তবে তিনি স্বীকার করেন, এতে ছোটপর্দায় একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং দর্শকরাও ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মমুখী হচ্ছেন।

অন্যদিকে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব মনে করেন, ওটিটিতে কাজ করা মানেই টেলিভিশন নাটককে অবহেলা করা নয়। তিনি বলেন, ভালো গল্প ও উন্নত প্রযোজনার সুযোগ থাকায় শিল্পীরা নতুন মাধ্যমে কাজ করছেন। তবে ঈদের নাটকের পারিবারিক আবহ এবং টেলিভিশনের ঐতিহ্য যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি নিজেও নাটক ও ওটিটি—দুই মাধ্যমেই ভারসাম্য রেখে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

প্রথম সারির শিল্পীদের অনুপস্থিতিতে তৌসিফ, ফারহান আহমেদ জোভান, মুশফিক আর ফারহান, খাইরুল বাসার, সাদিয়া আয়মান, কেয়া পায়েল, তটিনী, নাজনীন নিহা ও আইশা খানের মতো নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দর্শকদের নজর কাড়ছেন। জোভান বলেন, সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে এবং দর্শকদের ভালো গল্প উপহার দেওয়ার চাপও এখন বেশি। অন্যদিকে সাদিয়া আয়মানের মতে, এটি নতুন শিল্পীদের নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ, তবে দর্শকদেরও নতুনদের কাজকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

খাইরুল বাসার মনে করেন, অভিনয়ের দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত একজন শিল্পীকে প্রতিষ্ঠিত করে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার বদলে অভিনয়-যোগ্যতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তটিনী বলেন, নতুনদের জন্য সুযোগ তৈরি হলেও বড় প্রজেক্টে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ এখনও সীমিত। তার মতে, পরিচিত মুখ ও লবিংয়ের সংস্কৃতি অনেক সময় মেধাবী শিল্পীদের এগিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি করে।

মোশাররফ করিম সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র ভিউ বা অনলাইন ট্রাফিকের পেছনে ছুটতে গিয়ে মানসম্মত অভিনয় ও গল্পের চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর মেহজাবীন চৌধুরীর মতে, অনেক সময় গল্প বা চরিত্রের চেয়ে বাজারের চাহিদা এবং ভিউয়ের হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। একই সুরে মুশফিক আর ফারহানও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে চরিত্রের উপযুক্ত শিল্পীর বদলে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা মেধাবী অভিনয়শিল্পীদের নিরুৎসাহিত করছে।

চলচ্চিত্র ও নাটক সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন শিল্পীদের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সেই সুযোগকে অর্থবহ করতে হলে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ কাস্টিং প্রক্রিয়া গড়ে তোলা এবং সিন্ডিকেট সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাই হবে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।