আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজল দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘বাজিগর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েংগে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ও ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। এখন আগের মতো নিয়মিত বড় পর্দায় দেখা না গেলেও বেছে বেছে সিনেমা ও ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন তিনি। বয়স ৫০ পেরোলেও তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিয়মিতই আলোচনা হয়।
নিজের সৌন্দর্য ও ত্বকের যত্ন নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কাজল জানিয়েছেন, জটিল কোনো রূপচর্চার বদলে নিয়মিত ও সহজ অভ্যাসকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর পরিচিত স্কিনকেয়ার রুটিনের অন্যতম বিষয় হলো নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখা এবং ঘুমানোর আগে মেকআপ সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলা। তিনি একাধিকবার বলেছেন, পরিষ্কার মুখ নিয়েই ঘুমাতে যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও বিশেষ গুরুত্ব দেন এই অভিনেত্রী। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পানকে সুস্থ ও সতেজ ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কাজল নিয়মিত পানি পান এবং ত্বক পরিষ্কার রাখার অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন।
সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষার বিষয়টিও কাজলের রুটিনে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর শেয়ার করা সৌন্দর্যচর্চার পরামর্শে সানস্ক্রিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সিরাম, টোনার ও ময়েশ্চারাইজারের মতো প্রয়োজনীয় প্রসাধনী ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত ধাপের জটিল স্কিনকেয়ার রুটিনে তিনি খুব বেশি আগ্রহী নন।
শুধু ত্বকের বাইরের যত্ন নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার দিকেও নজর দেন কাজল। নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এখন খাবারের পরিমাণ, কী খাচ্ছেন এবং কোথায় খাচ্ছেন—এসব বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। নিয়মিত শরীরচর্চার ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কআউটের সঙ্গে পিলাটিস ও ওয়েস্টার্ন ড্যান্সকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
পর্যাপ্ত ঘুমকেও নিজের সৌন্দর্য ও সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখেন কাজল। তাঁর মতে, ভালো ঘুম শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ত্বকেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও পর্যাপ্ত বিশ্রামকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন তিনি।
কাজলের এই অভ্যাসগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—সতেজ থাকার জন্য শুধু দামি প্রসাধনী বা বিশেষ কোনো সৌন্দর্যচর্চার ওপর নির্ভর করলেই হয় না। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাবার, শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।
তবে প্রত্যেকের ত্বক ও শরীরের প্রয়োজন এক নয়। তাই অন্য কারও রুটিন হুবহু অনুসরণ না করে নিজের ত্বকের ধরন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যার অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কাজলের সহজ ও নিয়মিত জীবনযাপনের দর্শন তাই বয়স ধরে রাখার কোনো জাদুকরী সূত্র নয়; বরং নিজের প্রতি ধারাবাহিক যত্নের একটি উদাহরণ।
আপনার মতামত লিখুন :