আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: কিছুদিন আগে কিংবদন্তি নির্মাতা এফ আই মানিক আক্ষেপ করে বলেছিলেন, অপু বিশ্বাসকে শুধু ফিতা কাটার অনুষ্ঠানে দেখলে তার ভীষণ খারাপ লাগে। প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই আক্ষেপ কি শুধু একজন প্রবীণ নির্মাতার? একসময় ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাসের পর্দা থেকে দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে তার কোটি ভক্তের কাছেও হতাশার।
একসময় শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন অপু। সেই সময়ের জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতি তাকে ‘ঢালিউড কুইন’ পরিচিতি এনে দেয়। পরবর্তী সময়ে নানা কারণে সেই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর অপুর ক্যারিয়ারে আগের মতো ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি—এমন আলোচনা চলচ্চিত্রাঙ্গনে বহুদিনের।
তবে এবার সেই জায়গা থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন অপু। দীর্ঘ বিরতির পর ‘শিকার’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় পর্দায় নিজের অভিনয়-সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সীমান্তবর্তী এলাকার গল্প নিয়ে নির্মিত থ্রিলারধর্মী সিনেমাটির পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান, আর গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু।
শুরুতে ‘শিকার’কে ওয়েব ফিল্ম হিসেবে ঘোষণা করা হলেও পরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির উপযোগী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্মাতার ভাষ্য, সিনেমাটির মূল আকর্ষণ এর গল্প এবং এতে অপু বিশ্বাসকে ভিন্ন ধরনের গ্ল্যামারাস চরিত্রে দেখা যাবে।
অপুর এই নতুন যাত্রার অন্যতম আকর্ষণ মুরতজা পলাশ। ছোট পর্দায় পরিচিত এই অভিনেতার বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে ‘শিকার’-এর মাধ্যমে। নাটকে তার অভিনয় দেখে তাকে সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। ফলে প্রথম সিনেমাতেই প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন পলাশ।
পলাশের জন্য এই অভিষেক যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জও। ছোট পর্দায় অর্জিত অভিজ্ঞতা এবার বড় পর্দার অভিনয়ে কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়। অন্যদিকে অপু বিশ্বাসের জন্যও নতুন জুটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে ভিন্নরকম।
শুধু অপু ও পলাশ নন, ‘শিকার’-এ যুক্ত হয়েছেন দুই বাংলার বেশ কয়েকজন পরিচিত অভিনয়শিল্পী। কলকাতার রজতাভ দত্ত, শ্যাম ভট্টাচার্যসহ আরও কয়েকজন অভিনেতা সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিল্পী ও কলাকুশলীদের সমন্বয়ে নির্মিত হচ্ছে সিনেমাটি।
ইতোমধ্যে নেপালের পোখারায় সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়েছে। পাহাড়ঘেরা মনোরম লোকেশনে মহরত শেষে দৃশ্যধারণে অংশ নিয়েছেন অপু বিশ্বাস, মুরতজা পলাশ, বড়দা মিঠু, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা।
অপু বিশ্বাস নিজেও সিনেমাটি নিয়ে আশাবাদী। তার ভাষ্য, নির্মাতা যখন গল্পটি নিয়ে আসেন, তখনই তিনি কাজটিতে রাজি হন। কারণ এতে তার অভিনয়ের জায়গা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন নায়ক মুরতজা পলাশের অভিষেক নিয়েও তিনি উচ্ছ্বসিত।
অপুর ক্যারিয়ারকে ঘিরে ‘শেষ সুযোগ’ কিংবা ‘ক্যারিয়ারে ফুলস্টপ’—এ ধরনের মন্তব্য ইতোমধ্যে আলোচনায় আসতে পারে। তবে একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারকে একটি সিনেমার সাফল্য-ব্যর্থতা দিয়ে চূড়ান্তভাবে বিচার করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটিও ভাবার বিষয়। বরং ‘শিকার’কে অপুর জন্য নতুন করে দর্শকের আস্থা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখাই বেশি বাস্তবসম্মত।
অন্যদিকে পলাশের সামনে রয়েছে আরও বড় সুযোগ। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ থেকে এবার তিনি বড় পর্দার নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লড়াইয়ে নামছেন। প্রথম সিনেমাতেই অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের সঙ্গে জুটি বাঁধা তার ক্যারিয়ারে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
সব মিলিয়ে ‘শিকার’ এখন শুধু একটি নতুন সিনেমার নাম নয়; এটি একই সঙ্গে অপুর প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা এবং পলাশের অভিষেকের গল্প। নেপালের পাহাড়ি লোকেশন, থ্রিলারধর্মী গল্প, দুই বাংলার পরিচিত শিল্পীদের উপস্থিতি এবং নতুন জুটির সমীকরণ—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
অপু বিশ্বাস কি ‘শিকার’-এর মাধ্যমে আবারও ফিরিয়ে আনতে পারবেন তার হারানো জনপ্রিয়তার সেই ঝলক? মুরতজা পলাশ কি প্রথম সিনেমাতেই নিজেকে বড় পর্দার সম্ভাবনাময় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। আপাতত অপেক্ষা—‘শিকার’ কতটা শিকার করতে পারে দর্শকের মন।
আপনার মতামত লিখুন :