• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

লিওনেল মেসি: সংগ্রাম, স্বপ্ন আর সাফল্যের অবিশ্বাস্য গল্প


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত এবং সফল খেলোয়াড়দের একজন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। নিজের অসাধারণ দক্ষতা, ধারাবাহিকতা এবং অসংখ্য রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ফুটবলে একটি অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন এই তারকা ফুটবলার। তার বাবা হোর্হে হোরাসিও মেসি এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবলে হাতেখড়ি হয় মেসির। ছোটবেলা থেকেই তার প্রতিভা নজর কাড়লেও ১১ বছর বয়সে গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় পড়েন তিনি। চিকিৎসার ব্যয় ছিল অত্যন্ত বেশি, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ক্লাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এমনকি কথিত আছে, তাৎক্ষণিকভাবে একটি ন্যাপকিন কাগজে মেসির সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি লিখে রাখা হয়েছিল।

আর্জেন্টিনার নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজে প্রাথমিক ফুটবল জীবন কাটানোর পর ২০০০ সালে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দেন মেসি। অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তিনি ক্লাবের মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০০৪ সালে লা লিগায় অভিষেকের মাধ্যমে শুরু হয় তার পেশাদার ক্যারিয়ার।

বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেন মেসি। লা লিগা, কোপা দেল রে, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ইউরোপীয় ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন তিনি। তার গোল, অ্যাসিস্ট এবং রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা তাকে ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও মেসির পথচলা ছিল ঘটনাবহুল। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর তিনি দীর্ঘ সময় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে একাধিক ফাইনালে হারার কারণে সমালোচনার মুখে পড়লেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের মাধ্যমে সব আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেন। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য গোল ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও মেসি অনন্য। একাধিকবার বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ২০১২ সালে এক ক্যালেন্ডার বছরে ৯১ গোল করে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড গড়েন, যা এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

শারীরিক সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট এবং কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে লিওনেল মেসি আজ কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার নাম। তার জীবন প্রমাণ করে যে প্রতিভার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য মানসিক শক্তি থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসেছেন। এই ম্যাচের আগে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে থাকলেও এখন ১৮ গোল নিয়ে এককভাবে রেকর্ডের মালিক মেসি।

এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন তিনি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই রেকর্ড গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। নবম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি বেশি সময়। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে আরও একটি গোল যোগ করে নিজের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বর্তমানে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির পরে রয়েছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা, যার গোল সংখ্যা ১৬। তৃতীয় স্থানে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও, যিনি করেছেন ১৫ গোল।

এই ম্যাচে গোল করে মেসি আরেকটি অনন্য কীর্তিও গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইন এবং ব্রাজিলের জর্জিনিও। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে ২১০ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২২-এ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার ওপরে রয়েছেন কেবল পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যার গোল সংখ্যা ১৪৩।

২০০৬ বিশ্বকাপে অভিষেকের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা। সেবার সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোর বিপক্ষে গোল করে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ২০১০ বিশ্বকাপে গোলশূন্য থাকলেও ২০১৪ সালে চার গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। ২০১৮ আসরে করেন একটি গোল। আর ২০২২ বিশ্বকাপে সাত গোল করে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন।

তবে রেকর্ডের রাতে একটি বিব্রতকর পরিসংখ্যানও যুক্ত হয়েছে মেসির নামের পাশে। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করা ফুটবলারের রেকর্ডও এখন তার দখলে। এ পর্যন্ত বিশ্বকাপে তিনটি পেনাল্টি মিস করেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা, যা একটি নতুন রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।