আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পূর্ণিমা আজ জীবনের ৪৫তম বছরে পদার্পণ করলেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে নিজের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেত্রীর পারিবারিক নাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। প্রথম চলচ্চিত্রেই নজর কাড়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
‘নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘ধোঁকা’, ‘শিকারি’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘টাকা’, ‘শাস্তি’, ‘মনের সাথে যুদ্ধ’, ‘আকাশছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘পরাণ যায় জ্বলিয়া রে’, ‘মায়ের জন্য পাগল’ ও ‘শুভ বিবাহ’সহ একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূর্ণিমা। হুমায়ূন আহমেদের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’ চলচ্চিত্রে শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণীর চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ২০১০ সালে ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেন।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি উপস্থাপক হিসেবেও সফলতা পেয়েছেন পূর্ণিমা। বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও বিশেষ আয়োজনের সঞ্চালনায় তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখে পরিবার ও পেশার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেছেন তিনি। এ কারণে নতুন প্রজন্মের অনেক শিল্পীর কাছেও তিনি অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। জন্মদিন উপলক্ষে ভক্ত, বন্ধু ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন এই অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মানুষের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প পেলে আবারও নাটক কিংবা সিনেমায় নিয়মিত অভিনয়ে ফিরতে চান।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের অনন্য সমন্বয়ে পূর্ণিমা নিজেকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তাই তাঁর অনুরাগীরা এখনও আশায় আছেন, খুব শিগগিরই নতুন কোনো শক্তিশালী চরিত্রে আবারও রুপালি পর্দায় দেখা যাবে প্রিয় এই অভিনেত্রীকে।
আপনার মতামত লিখুন :