আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: উৎসব সামনে রেখে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ঝরঝরে হওয়ার পাশাপাশি ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা আনতে চান অনেকেই। কিন্তু দ্রুত ওজন কমানোর আশায় না খেয়ে থাকা বা ক্রাশ ডায়েট করা শরীরের জন্য উপকারী নয়। বরং সুষম খাবার কমিয়ে দিলে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীর ও ত্বকের যত্ন নিতে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।
হার্ভার্ডের Healthy Eating Plate-এ একটি স্বাস্থ্যকর খাবারের প্লেটে প্রচুর সবজি ও ফল, পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেল ও পানি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শসা ও লেবুর পানীয়
দিনের শুরুতে শসা ও লেবু দিয়ে তৈরি পানীয় রাখা যেতে পারে। শসায় পানির পরিমাণ বেশি এবং ক্যালরি তুলনামূলক কম। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরে কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তবে এটিকে কোনো ‘মেদ ঝরানোর পানীয়’ হিসেবে না দেখে পানি ও ফল-সবজি গ্রহণের একটি সহজ উপায় হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো। ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সকালের খাবারে টক দই
সকালের খাবারে টক দই রাখা যেতে পারে। এতে প্রোটিন থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি পেতে সহায়তা করতে পারে। কিছু টক দইয়ে প্রোবায়োটিকও থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে বাজারের দই কেনার সময় বাড়তি চিনি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া ভালো।
গ্রিন টি
দিনে এক থেকে দুই কাপ গ্রিন টি পান করতে পারেন। এতে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। তবে গ্রিন টি একাই ওজন কমানোর সমাধান নয়। চিনি না দিয়ে পান করলে এটি চিনিযুক্ত পানীয়ের তুলনায় ভালো বিকল্প হতে পারে।
চিয়া সিড ও তিসির বীজ
চিয়া সিড ও তিসির বীজে রয়েছে আঁশ, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে এগুলো যোগ করা যেতে পারে। চিয়া ও তিসিতে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে। তবে বেশি খেলেই দ্রুত ওজন কমবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
টমেটো ও গাজর
কম ক্যালরির খাবার হিসেবে সালাদ, স্যুপ বা রান্নায় টমেটো ও গাজর রাখা যেতে পারে। গাজরে বিটা-ক্যারোটিন এবং টমেটোতে লাইকোপেনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়াই সামগ্রিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ডও খাবারে সবজি ও ফলের বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিকেলের নাশতায় বাদাম
বিকেলের নাশতায় ভাজাপোড়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণ কাঠবাদাম বা আখরোট বেছে নেওয়া যেতে পারে। বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, আঁশ ও বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। তবে বাদামে ক্যালরি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
শুধু খাবার নয়, দরকার সামগ্রিক অভ্যাস
কয়েকটি নির্দিষ্ট খাবার খাদ্যতালিকায় যোগ করলেই দ্রুত মেদ ঝরে যাবে—এমনটা নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মোট খাদ্যগ্রহণ, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। হার্ভার্ডও স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি সক্রিয় থাকা ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।
অতিরিক্ত চিনি, চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ডুবো তেলে ভাজা খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, মাছ, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর উদ্ভিজ্জ তেল পরিমিত ব্যবহার করাও ভালো।
ত্বকের ক্ষেত্রেও কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বলছে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সাধারণত সুষম খাদ্য থেকেই নেওয়া ভালো।
তাই উৎসবের আগে দ্রুত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা বা কঠোর ক্রাশ ডায়েটের বদলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর। এতে শুধু উৎসবের সময় নয়, দীর্ঘমেয়াদেও শরীর ও ত্বক—দুটির যত্ন নেওয়া সম্ভব।
আপনার মতামত লিখুন :