• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

খোলামেলা পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না রাশমিকা, পাশে বিজয় দেবরকোন্ডা


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  অভিনয়ের প্রয়োজনে সবকিছু মেনে নিতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে মনে করেন দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। পর্দায় চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা খোলামেলা পোশাক পরার প্রসঙ্গ এলেও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে গুরুত্ব দেন তিনি। তবে কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তির কথা নির্মাতাদের জানানো সব সময় সহজ হয় না বলেও স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে অতিথি হিসেবে হাজির হন রাশমিকা। সেখানে চলচ্চিত্রে নারীর উপস্থাপন, পর্দায় শরীর প্রদর্শন এবং অভিনয়শিল্পীদের নিজেদের আপত্তি জানানোর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। আলোচনায় উঠে আসে রাম চরণের সিনেমা ‘পেদ্দি’-তে জাহ্নবী কাপুরের চরিত্র উপস্থাপন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।

খোলামেলা পোশাকে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট রাশমিকার

আলোচনায় রাশমিকা জানান, কিছু চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি পরার মতো পোশাকের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, পর্দায় শরীরের অতিরিক্ত অংশ প্রদর্শন করতে তিনি বাধ্য। বাণিজ্যিক সিনেমায় এমন কিছু পোশাক বা দৃশ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেগুলোর সঙ্গে অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত পছন্দ পুরোপুরি মেলে না। সে ক্ষেত্রে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

রাশমিকার ভাষ্য, তিনি সাধারণত এমন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেন, যাঁরা অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সম্মান করেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, অনেক নির্মাতাই এ ধরনের আপত্তি বুঝতে পারেন এবং সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান। তবে নিজের অস্বস্তির কথা সরাসরি জানাতে মানসিক প্রস্তুতি ও সাহস প্রয়োজন হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

আপত্তি জানাতে বিজয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন রাশমিকা

কোনো দৃশ্য করতে অনিচ্ছা থাকলে কখনো কখনো স্বামী বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন রাশমিকা। নিজের সিদ্ধান্ত জানানো উচিত হবে কি না, তা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নেন। বিজয়ের উৎসাহ ও আশ্বাস তাঁকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলতে সাহস জোগায় বলে জানান অভিনেত্রী।

রাশমিকার মতে, অভিনয়শিল্পীদের জন্য এমন পরিবেশ থাকা জরুরি, যেখানে কোনো পোশাক বা দৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে কিংবা আপত্তি জানাতে তাঁদের অস্বস্তিতে পড়তে হবে না। নির্মাতাদেরও বিষয়টি সহজভাবে নেওয়া উচিত, যাতে শিল্পীরা নির্দ্বিধায় নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।

‘না’ বললে অপেশাদার তকমার ভয় থাকে: বিজয়

আলোচনায় রাশমিকার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন বিজয় দেবরকোন্ডা। তাঁর মতে, অভিনয়শিল্পীদের পাশে এমন মানুষ থাকা প্রয়োজন, যাঁরা তাঁদের নিজেদের অবস্থানে দৃঢ় থাকতে এবং প্রয়োজনে ‘না’ বলতে উৎসাহ দেবেন।

বিজয় বলেন, কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীরা অনেক সময় একধরনের চাপ অনুভব করেন। তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা যেহেতু সিনেমাটিতে কাজ করতে রাজি হয়েছেন, তাই চরিত্রের প্রয়োজনে সবকিছু করাই তাঁদের দায়িত্ব। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানালে অপেশাদার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

এই ভয় থেকেই অনেক শিল্পী নিজেদের অস্বস্তি প্রকাশ না করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যে রাজি হয়ে যান বলে মনে করেন বিজয়। তাঁর মতে, অভিনয়শিল্পীদের পেশাদারিত্বের অর্থ এই নয় যে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত সীমারেখা উপেক্ষা করবেন। বরং নির্মাতাদের এমন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত, যেখানে শিল্পীরা কোনো ধরনের চাপ বা নেতিবাচক তকমার ভয় ছাড়াই নিজেদের মতামত জানাতে পারেন।

জাহ্নবী কাপুরের ‘পেদ্দি’ ঘিরে বিতর্ক

আলোচনার সূত্রপাত রাম চরণ অভিনীত ‘পেদ্দি’ সিনেমায় জাহ্নবী কাপুরের চরিত্রের উপস্থাপন নিয়ে দর্শকদের সমালোচনা থেকে। সিনেমাটিতে তাঁর চরিত্রকে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে কিছু ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ও দৃশ্যের উপস্থাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। এ বিতর্কের পর চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের উপস্থাপন এবং অভিনয়শিল্পীদের সম্মতি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

রাশমিকা ও বিজয়ের বক্তব্য সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁদের মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর কাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা যেমন জরুরি, তেমনি নিজের অস্বস্তি প্রকাশ করার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়ের প্রয়োজনে কোনো কিছু করতে রাজি হওয়া আর চাপের মুখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা মেনে নেওয়া দুটিকে এক করে দেখা উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, ‘কফি উইথ করণ ৯’-এ তাঁদের এই আলোচনা শুধু তারকাদের ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়; বরং চলচ্চিত্রের কর্মপরিবেশ, পারস্পরিক সম্মান এবং অভিনয়শিল্পীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।