আনন্দ বিনোদন ডেস্ক: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ঘিকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ডাল, খিচুড়ি, রুটি, হালুয়া কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবারে ঘির ব্যবহার বহু পুরোনো। ভারতের পুষ্টিবিদ শিল্পা অরোরার মতে, পরিমিত পরিমাণে ঘি শরীরের জন্য উপকারী এবং আধুনিক রিফাইনড তেলের তুলনায় এটি অনেক ক্ষেত্রেই ভালো বিকল্প হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘিতে রয়েছে ভিটামিন-এ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং চর্বিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রায়ও ঘি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে, ফলে এটি সহজে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি করে না।
১. শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়ক
আয়ুর্বেদ মতে, ঘি শরীরের ভেতরে তাপ উৎপাদনে সহায়তা করে। তাই শীতের সময়ে বিভিন্ন খাবারে ঘির ব্যবহার বেশি দেখা যায়।
২. নাক বন্ধের সমস্যা কমাতে সহায়ক
কিছু আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে কুসুম গরম খাঁটি ঘির কয়েক ফোঁটা নাকে ব্যবহার করার কথা বলা হয়। তবে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনুসরণ করা উচিত নয়।
৩. দ্রুত শক্তি জোগায়
ঘিতে থাকা মিডিয়াম ও শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরকে দ্রুত শক্তি সরবরাহে সহায়তা করে।
৪. উপকারী চর্বির উৎস
পরিমিত ঘি শরীরের স্বাভাবিক ফ্যাট মেটাবলিজমে সহায়ক হতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস হিসেবে কাজ করে।
৫. হজম ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে উপকারী
ঘিতে থাকা বিউটিরিক অ্যাসিড অন্ত্রের কোষের জন্য উপকারী এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
৬. রক্তে শর্করার ভারসাম্যে সহায়ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুটি বা চ্যাপাটির সঙ্গে অল্প পরিমাণ ঘি খেলে খাবারের গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়া কিছুটা কমতে পারে।
৭. কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে
অনেকেই রাতে গরম দুধের সঙ্গে অল্প ঘি মিশিয়ে পান করেন, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক হতে পারে।
৮. হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে
পরিমিত পরিমাণে ঘি গ্রহণ করলে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত ঘি খাওয়া হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৯. ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখে
ঘি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ঘি সবসময় পরিষ্কার, বায়ুরোধী পাত্রে এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে সংরক্ষণ করা উচিত। এভাবে রাখলে ঘরে তৈরি ঘি প্রায় তিন মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে।
যদিও ঘির নানা উপকারিতা রয়েছে, তবুও এটি একটি উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার। হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতার ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আপনার মতামত লিখুন :