• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
anandabinodon.

৯৭তম জন্মদিনে লতা মঙ্গেশকর, স্মরণে তাঁর কালজয়ী ১০ বাংলা গান


FavIcon
আনন্দ বিনোদন
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহীত ad728

আনন্দ বিনোদন ডেস্ক:  উপমহাদেশের সংগীতজগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, তামিলসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়ে কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এই শিল্পী।

বাংলা গানের জগতেও লতা মঙ্গেশকরের অবদান অসামান্য। সলিল চৌধুরী, শচীন দেববর্মণ, সুধীন দাশগুপ্ত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও রাহুল দেববর্মণের মতো প্রখ্যাত সুরকারদের সুরে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, আবেগ ও অনন্য গায়কিতে এসব গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।

জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া স্মরণীয় ১০টি বাংলা গান।

১. না যেও না, রজনী এখনো বাকি

সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘না যেও না, রজনী এখনো বাকি’। বিরহ ও ভালোবাসার আবেগে ভরা গানটি বাংলা আধুনিক গানের ভুবনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। গানটির সুরের সঙ্গে মিল রয়েছে ১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি চলচ্চিত্র ‘পরখ’-এর জনপ্রিয় গান ‘ও সজনা, বরখা বাহার আয়ি’র।

২. কে প্রথম কাছে এসেছি

উত্তমকুমার ও মাধবী মুখোপাধ্যায় অভিনীত ‘শঙ্খবেলা’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির এই দ্বৈত গানে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মান্না দে। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং সুধীন দাশগুপ্তের সুরে গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় রোমান্টিক গানে পরিণত হয়েছে।

৩. যা রে যারে উড়ে যা রে পাখি

লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া ‘যা রে যারে উড়ে যা রে পাখি’ বাংলা গানের এক অনন্য সৃষ্টি। সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে ১৯৫৯ সালে গানটি রেকর্ড করা হয়। গানটির সুর পরবর্তী সময়ে ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া হিন্দি চলচ্চিত্র ‘মায়া’র ‘যা রে যা রে উড় যা রে পঞ্ছী’ গানেও ব্যবহৃত হয়। দুই ভাষায়ই গানটি শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

৪. ও মোর ময়না গো

সলিল চৌধুরীর কথা ও সুরে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘ও মোর ময়না গো’ বাংলা আধুনিক গানের অন্যতম পরিচিত সৃষ্টি। মিষ্টি সুর ও আবেগময় গায়কির কারণে গানটি শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। সলিল চৌধুরী ও লতা মঙ্গেশকরের অসাধারণ সংগীত-সমন্বয়ের স্মরণীয় উদাহরণ হিসেবেও গানটি পরিচিত।

৫. আমার স্বপ্ন যে সত্যি হলো আজ

রাহুল দেববর্মণের সুরে লতা মঙ্গেশকর ও কিশোর কুমারের কণ্ঠে গাওয়া ‘আমার স্বপ্ন যে সত্যি হলো আজ’ একটি জনপ্রিয় দ্বৈত গান। ১৯৮১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘অনুসন্ধান’ চলচ্চিত্রের বাংলা সংস্করণে গানটি ব্যবহৃত হয়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা গানটিতে প্রেম ও স্বপ্ন পূরণের আনন্দ ফুটে উঠেছে। অমিতাভ বচ্চন ও রাখী গুলজার অভিনীত ছবিটির সংগীতের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এটি।

৬. আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে এবং মুকুল দত্তের কথায় লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন’ বাংলা গানের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি। ‘মণিহার’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত এই গানটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্ষার আবহ ও মনের নানা অনুভূতি। সন্ধ্যা রায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবিটির গানটি আজও শ্রোতাদের কাছে পরিচিত।

৭. আকাশপ্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে

লতা মঙ্গেশকরের বাংলা আধুনিক গানের অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি ‘আকাশপ্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে’। পবিত্র মিত্রের কথায় এবং সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সুরে গানটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে। স্নিগ্ধ সুর ও আবেগময় পরিবেশনার কারণে গানটি বাংলা সংগীতের কালজয়ী সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

৮. ওই গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি

‘রাগ অনুরাগ’ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান ‘ওই গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি’। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে এবং পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় গানটি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন অপর্ণা সেন ও রঞ্জিত মল্লিক। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও মধুর সুরের মেলবন্ধনে গানটি শ্রোতাদের কাছে আজও সমাদৃত।

৯. ওগো আর কিছু তো নাই

সলিল চৌধুরীর সুরে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘ওগো আর কিছু তো নাই’ বাংলা আধুনিক গানের আরেকটি স্মরণীয় সৃষ্টি। গানটির আবেগময় সুর ও লতার অনন্য কণ্ঠের মেলবন্ধন শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। বাংলা সংগীতে সলিল চৌধুরী ও লতা মঙ্গেশকরের যৌথ কাজের মধ্যে গানটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১০. কী লিখি তোমায়

প্রেমের আবেগে ভরা ‘কী লিখি তোমায়’ গানটি লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া আরেকটি জনপ্রিয় বাংলা গান। মুকুল দত্তের কথায় এবং কিশোর কুমারের সুরে তৈরি এই গানটির কথায় প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা ও মনের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সুর ও কণ্ঠের মেলবন্ধনে গানটি শ্রোতাদের কাছে বিশেষ আবেদন তৈরি করেছে।

১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা গানে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। তাঁর গাওয়া গানগুলো শুধু একটি সময়ের স্মৃতি নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া সংগীতের অমূল্য সম্পদ।

২০২২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তবে তাঁর কণ্ঠের জাদু আজও অমলিন। বাংলা গানের ভুবনে রেখে যাওয়া অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি তাঁকে শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।